নেদারল্যান্ড সরকারের অনুদান বন্ধ: উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে জনবল সংকট, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে অবস্থিত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির অবস্থা বেহাল। ভবনগুলোর ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। বিভিন্ন স্থানের ছাদ ও দেয়াল খসে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক, যে কোনও সময় ধসে পড়তে পারে ভবনটি। চারপাশের ঝোঁপঝাড় আর জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে অনেকেই মনে করেন এটি পরিত্যক্ত কোনও ভবন। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীকে দূর-দূরান্তে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। এই দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে চান তারা। কর্তৃপক্ষের কোনও তদারকি না থাকায় মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে ভবনটি। নষ্ট হতে বসেছে ভবনসহ মূল্যবান আসবাবপত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে নেদারল্যান্ড সরকারের অনুদানে কৃষ্ণপুর এলাকায় ৪০ শতাংশ জায়গার ওপর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নির্মাণ এবং পরিচালিত হয়ে আসছিল। মূল ভবন ও স্টাফদের থাকার জন্য আরও ২টি ভবনসহ মোট তিনটি ভবন এবং চারদিকে সীমানা প্রাচীর করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের মানুষ এখানে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে আসছে। কিন্তু নেদারল্যান্ড সরকার অনুদান বন্ধ করে দেওয়ায় বিগত কয়েক বছর ধরে এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি জনবল সংকটে পড়েছে। দিনের পর দিন বন্ধ থাকার কারণে ভবনগুলো রীতিমতো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে ভবনটিতে মাদকসেবীরা আড্ডা দিচ্ছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার মানুষকে ১৫ কিলোমিটার দূরে সদরপুরে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিতে হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্করা স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বেশি ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন। জরুরি ভিত্তিতে পুনর্সংস্কার করে জনবল নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রটি দ্রুত চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওমর ফয়সাল বলেন, ‘ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। ছাদের প্লাস্টার ধসে পড়েছে। যে কোনও সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে দুই বছর চালানো হয়েছে। এখন আর মোটেই সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন মেডিক্যাল সহকারী ও একজন ভিজিটর দিয়ে পরিচালনা করছিলাম। ভিজিটর অবসরে গেছেন এবং মেডিক্যাল সহকারী উপজেলায় করোনা সেবায় কর্মরত আছেন। তবে সরকার উদ্যোগ নিলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব।’

Comments (0)
Add Comment