তেঁতুলিয়ায় দুদক কর্মকর্তাসহ ৩ ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখলসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ

তেঁতুলিয়া প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তা ও তার ছোট দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের টেটনাপাড়া গ্রামের।

অভিযুক্তরা হলেন, একই এলাকার মৃত জহিরুল ইসলামের তিন ছেলে (১) নুর বকস বাবুল, (২) রবিউল ইসলাম ও (৩) আবু ছায়েদ রুবেল। এর মধ্যে নুর বকস বাবুল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দিনাজপুরে প্রধান সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন।

ভুক্তভোগীদের একটি লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রবিউল ও রুবেল নিজ এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে জমি দখল, গাছ কাটা, প্রতারনা, মাদক সেবন, মোবাইল বাজি, জুয়া ও নারী কেলেঙ্কারীসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত আছেন। এতে এলাকাবাসী কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বড় ভাই নুর বকস বাবুলের জোরে মিথ্যা মামলা, মারধর ও প্রাণ নাশের ভয় দেখায়। বিচার শালিশ বা কোনো আইনগত সুষ্ঠু প্রতিকার পাওয়া যায় না। বড় ভাই দুদক কর্মকর্তা নুর বকস বাবুলের জোরে রবিউল ও রুবেল তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে রবিউল মাঝিপাড়া মহিলা কলেজে গ্রন্থাকারীক পদে কর্মরত আছেন। এরই মাঝে রবিউল পুলিশ বাদী মামলায় কিছুদিন জেল খাটার পর জামিনে রয়েছেন। দুদকের ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তা নুর বকস বাবুলের ছত্রছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে রবিউল ও রুবেল এলাকায় এ ধরণের কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার অতিষ্ঠ হয়ে গণমাধ্যমের মাধ্যমে অভিযোগ তুলে এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতা চান অভিযোগকারীরা।

অভিযোগকারী ওই গ্রামের জাকির হোসেন বলেন, দুদক কর্মকর্তা নুর বকস বাবুলের প্রভাবে তার দুই ছোট ভাই রবিউল ও রুবেল বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধুমকি দিয়ে দুদকের প্রভাব খাটায় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব করছে। আমি রুবেলের কাছে একটা গাছ কিনে নিয়েছিলাম। সেই গাছ তারা একসময় রাস্তার পাশে লাগায়। তারা ১০/১২ টা কাটে, এর মাঝে তাদের কাছে কিনে নেওয়ার পরেও তারা আমার গাছটি কেটে নিয়েছে। এখন ওরা সরকারি মাধ্যমে সরকারি গাছ বলে আমাকে হেনেস্তা করছে যে গাছটা নাকি আমি কেটে নিয়েছি। এখন আমি প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে মামলার ভয়ভিতি দেখাচ্ছে। এই কারণে আমরা আপনাদের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি।

জমিরুল নামে আরেকজন বলেন, আমার ২২ ডেসিমেল জমি ছিলো। এখন রবিউল ও রুবেল জোর খাটিয়ে আমাকে কোন ভাবে সে জমি দখল দিচ্ছে না। এই দুই ভাই তার বড় ভাই দুদক কর্মকর্তার সহযোগীতা নিয়ে প্রভাব খাটাচ্ছে। আবার ১৮ শতক জমি আমাদের পার্চা করে দেয়ার পরেও আমরা তাদের কাছ থেকে জমিটা বুঝে পাচ্ছি না। জমির ব্যাপারে কিছু বলতে গেলে তাদের প্রভাবশালী লোকদের ভয় দেখাচ্ছে। ভয়ে আমরা সেখানে যেতে পারছি না। এদিকে জহিরুলসহ অপর অভিযোগকারীরা বলেন, আমরা জমির জন্য গেলে রবিউল আর রুবেল তাদের নিজ ছেলে-মেয়ে ও বৌকে হত্যা করে মামলায় ফাসিয়ে দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে। তাদের কাছে সমাধানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বড় ভাই দুদক কর্মকর্তার প্রভাব দেখিয়ে শুধু হুমকি দিচ্ছে। তবে নুর বকস বাবুলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়গুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে অভিযুক্ত আবু ছায়েদ রুবেলকে না পাওয়া গেলেও আরেক অভিযুক্ত ভাই রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি ভিত্তিহিন। যে অভিযোগটি আমাদের করা দরকার সেটা তারা উল্টো আমাদের নামে করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বড় ভাই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তা নুর বকস বাবুল মুঠোফোনে বলেন, যারা অভিযোগ করেছে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তারা উল্টো আমাদের ভিত্তিহিন একটা অভিযোদ দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.